ব্রণ ও মুখে গর্ত দাগ? ঘরে থাকা সাধারণ এই জিনিসটি মেখে মাএ ৪ দিনে দুর করুন গর্ত ও দাগ |

ব্রণের সাথে যুদ্ধ করেন নি এমন মানুষ কমই আছে। নানা কারণেই ব্রণ হতে পারে। ব্রন যেকোন বয়সের মানুষের ত্বকেই দেখা দিয়ে থাকে বিশেষ করে টিনএজারদের ত্বকে ব্রণের সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়ে থাকে।

এরপর হয়তো একটি সময় ব্রন সমস্যা রোধ হয় কিন্তু পুরোপুরি রোধ হয় না। তৈলাক্ত ত্বকেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্রন হতে দেখা যায়।

ব্রন স্বাভাবিক ভাবেই ত্বকের সৌন্দর্য নষ্ট করে থাকে কিন্তু সবচেয়ে বেশি খারাপ তখনই লাগে যখন ব্রণের ক্ষত দাগ আমদের ত্বকে রিয়ে যায় যাকে মূলত একনে স্কার বলা হয়।

ব্রন হাত দিয়ে খুঁটলে এমন দাগ দেখা দেয় ত্বকে। আর এই ক্ষত দাগগুলোকে ত্বক হতে খুব সহজে রোধ করা যায় না।

কিছু প্রাকৃতিক উপায়ে এই দাগগুলো সারিয়ে তোলা যায় কিন্তু এটি অনেক সময়ের ব্যাপার। তাই চলুন জেনে নিই ব্রণের ক্ষত দাগ সারাতে কী করবেন।

ব্রণের ক্ষত দাগ ভরাট করার উপায়-
চিনি দিয়ে স্ক্রাব
যাঁদের ত্বকে ব্রনের অনেক ক্ষত দাগ রয়েছে তারা চিনি ব্যবহার করতে পারেন দাগ রোধ করতে। কারণ চিনিতে আছে গ্লাইকলিক এসিড( glycolic acid) ও AHA উপাদান যা ত্বকের মৃত কোষ রোধ করে এবং নতুন কোষ তৈরিতে সাহায্য করে।

পরিমাণ মতো চিনি নিয়ে তাতে সামান্য অলিভ ওয়েল ও লেবুর রস মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। তারপর ত্বকে ম্যাসেজ করুন। ১০/১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

ভালো ফলাফল পেতে সপ্তাহে ২/৩ বার ত্বকে চিনির এই পেস্ট ব্যবহার করুন। কিন্তু ত্বক পরিষ্কার করে ফেলার পর ময়শ্চার লাগাতে ভুলবেন না।
ভিটামিন ই ক্যাপসুল

ত্বকে ব্রণের ক্ষত রোধ করতে সবচেয়ে সহজ উপায় হল ভিটামিন ই। ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্রণের ক্ষত দাগা সারাতে খুব ভালো কাজ করে।

প্রতিদিন ময়শ্চারাইযার হিসেবে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ত্বকে ব্যবহার করুন। ভিটামিন ই ক্যাপসুল ত্বকের ক্ষত দাগ তো রোধ করেই সাথে ব্রণও রোধ করে।
আলুর রস
নানা ধরণের পুষ্টি ও মিনারেলে ভরপুর সবজি হল আলু। আর এই আলু আমাদের দেহ ও ত্বক উভয়ের জন্যই ভালো। ত্বক থেকে ব্রণের ক্ষত দাগ সারাতে আলুর জুস ব্যবহার করুন।

একটি আলু নিয়ে কেটে স্লাইস করে নিন তারপর সরাসরি ত্বকের ক্ষত দাগের ওপর দিয়ে রাখুন।

এছাড়াও আলু কেটে ব্লেন্ড করে তা থেকে রস নিয়ে ত্বকে ম্যাসেজ করতে পারেন এবং আরও ভালো ফল পেতে আলুর রস ত্বকে দিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন তারপর কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। প্রতিদিন একবার এইভাবে ত্বকে আলুর রস ব্যবহার করুন।

এমন কোন ব্যক্তি নেই যে, সে ব্রণের সাথে পরিচিত নন।ব্রণ সমস্যার জন্য মূলত অপিষ্কার অপরিচ্ছন্নতাই দায়ী।যারা ব্রণ সমস্যায় পড়েছেন তারা ব্রণ সমস্যা সমাধানের একটি কার্যকরী পদ্ধতি দেখতে পারেন।

আবার অনেকে আছেন যারা ব্রণ সমস্যা থেকে মুক্তি পেয়েছেন কিন্তু থেকে গেছে ব্রণের দাগ বা গর্ত।ব্রণের এই গর্ত বা দাগ কিন্তু আপনার সুন্দর্যকে কমিয়ে দেয়।fair value এর গুরুত্ব সবার কাছে আছে।

অধিকাংশক্ষেত্রে দেখা ব্রণের কাল দাগ দূর হলেও থেকে যায় অসুন্দর গর্তের দাগ গুলো যা সহজে যেতেও চায় না ।মনে রাকবেন ত্বকের ক্ষতির কথা চিন্তা করে কেমিকেল জাতীয় প্রসাধনী ব্যবহার করাও উচিত নয় ।
চলুন দেখে নি কীভাবে প্রাকৃতিক উপায়ে সারিয়ে তুলবেন ব্রণের গর্ত-

১। ভিটামিন ই তেলঃ
ব্রনের গর্তের দাগ সারানোর জন্য সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর সমাধান হচ্ছে ভিটামিন ই তেল। এটি ব্রণের গর্তে যাদুর মত কাজ করে।

প্রতিদিন অল্প পরিমাণে ভিটামিন ই তেলের ব্যবহারে আপনার মুখমন্ডল হয়ে উঠবে দাগহীন,উজ্জ্বল। এটি ব্রণের কালো দাগ সারাতেও সাহায্য করে।

ভিটামিন ই তেল বাজারে কিনতে পাওয়া যায়। আর না পেলে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ব্যবহার করুন। প্রথমে সমস্ত মুখ মন্ডল তেল মুক্ত ফেস ওয়াস দিয়ে পরিষ্কার করে নিন ।

আরপর একটা পরিষ্কার পিন বা সূঁচ এর সাহায্যে ক্যাপসুলটি ফুটো করে তেল নিঃসরন করুন। তারপর পরিষ্কার হাত দিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন।

খুব বেশি তৈলাক্ত ত্বক হলে লাগানোর আধ ঘণ্টা পর টিস্যু পেপার দিয়ে অতিরিক্ত তেল চেপে চেপে তুলে নিন। নয়ত সারা রাত লাগিয়ে রাখতে পারেন। সমস্যা খুব বেশি না হলে সপ্তাহে ২-৩ বার এভাবে করুন।

২। লেবুঃ

লেবু সাইট্রিক এসিডের অন্যতম একটি উৎস। সাইট্রাস এসিড স্কার সারাতে অনবদ্য। কয়েক গ্লাস লেবুর শরবত পান করলে তার সাইট্রিক উপাদান আপনার দেহের ভেতর থেকে মরা কোষ সারিয়ে ত্বকের রঙ হালকা করতে সাহায্য করে।

একটি মাঝারি আকারের লেবুর রস সমপরিমাণ পানির সাথে মিশিয়ে মুখে ঘষুনএতে গর্তের দাগ হালকা হবে। সময়ের সাথে সাথে আপনি পাবেন দাগ মুক্ত ত্বক।

৩। অ্যালোভেরা জেলঃ

অ্যালোভেরা জেল প্রকৃতির আশীর্বাদ স্বরূপ। এই একটা উপাদান ত্বকের নানা রকম সমস্যা থেকে মু্ক্তি দেয়। টাটকা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করুন ।

এখন বিভিন্ন সুপার শপ গুলোতে অ্যালোভেরা পাওয়া যায়। সেখান থেকে কাঁচা অ্যালোভেরা কিনে জেল বের করে নিতে হবে।

বাইরে থেকে কিনতে না চাইলে নিজের টবেও লাগাতে পারেন অ্যালোভেরা। প্রথমেই একটি আস্ত অ্যালোভেরা নিয়ে সেটিকে ছুঁরির সাহায্যে যে কোন এক দিক থেকে কাটুন।

কাটলেই দেখবেন ভেতরে স্বচছ্ব জ়েলীর মত উপাদান, এটি ব্যবহার করুন। দিনে যতবার ইচ্ছা ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনাকে দেবে বিরক্তিকর ব্রণের গর্তের দাগ থেকে মুক্তি।

৪। টমেটোঃ

টমেটোতে আছে ভিটামিন ”এ” যা সেবামের অতিরিক্ত ক্রীয়া বন্ধ করতে সক্রিয় ভূ্মিকা রাখে এবং ব্রণ ও ব্রণের দাগ দুটোই সারিয়ে তোলে।

তাছাড়া এতে আছে ত্বকের ক্ষয়-ক্ষতি সারিয়ে তুলার প্রচুর পরিমাণে এন্টি-অক্সিডেন্ট। মাঝারি আকারের টাটকা টমেটো নিন।

একে সমান ২ ভাগে ভাগ করুন। এবার দুই গালে প্রথমে ঘড়ির কাঁটার দিকে এবং তারপর ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ম্যাসাজ করুন। এতে যেমন গর্তের দাগ হালকা হবে, তদুপুরি রোদে পোড়া ভাব-ও কমবে। তাছাড়া এটি অনেক ভালো মেক-আপ রিমুভারের কাজ-ও করে থাকে ।

৫। অলিভ ওয়েলঃ

অলিভ ওয়েল একটি জাদুকরী উপাদান।খাদ্যদ্রব্যই সুস্বাদুসহ এটি ত্বক পরিচর্যায় ও কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এক্সট্রা ভারজিন অলিভ ওয়েল দ্রুত ব্রনের গর্ত সারাতে সাহায্য করে।

অলিভ ওয়েলের ময়েশ্চারাইজিং গুণাগুণের কারণে এটি দ্রুত ত্বকের সাথে মিশে যায় এবং গর্ত সারাতে সাহায্য করে। অল্প পরিমাণে অলিভ ওয়েল নিয়ে মুখ মন্ডলে মালিশ করুন এবং ভালো ফল পেতে ঘুমুতে যাওয়ার আগে ব্যবহার করুন ।

৬। মধুঃ

মধু একটি পরিচিত প্রাকৃতিক প্রসাধনী। প্রাচীন কাল থেকেই রূপচর্চার জন্য মধুর ব্যবহার প্রচলিত। মধুর মিষ্টতা খাবার হিসাবেও খুব ভালো।

ফ্যাট কম থাকায় এটি আপনাকে ফিট থাকতে যেমন সাহায্য করে তেমনি নিয়মিত ব্যবহারে সারিয়ে তোলে ব্রণের গর্তের দাগ।

৭। বরফ কুচিঃ

পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, বরফ কুচির ব্যবহারে ব্রণের গর্ত হালকা হয়। অনেকেই আছে ঘরে বসে স্কার সারানোর জন্য বরফ কুচি ব্যবহার করে থাকেন।

পাতলা কাপড় বা তুলোতে একটা বরফের টু্করো নিয়ে গর্তের জায়গায় ১৫-২০ মিনিট ঘষে লাগান। এতে ত্বকে আরামদায়ক অনুভুতির পাশাপাশি সারিয়ে দেবে গর্তের দাগ।

৮। ফেস প্যাকঃ

ব্রণের গর্ত সারাতে আপনার ফেস প্যাকে মেশান বেসন, টকদই ও শশার রস। এই ফেস প্যাকে ব্যবহারে আপনার ত্বক হয়ে উঠবে, উজ্জ্বল, প্রাণবন্ত,দাগহীন, যৌনদ্বীপ্ত ও তাজা।

ব্রণ ও ব্রণের গর্ত সারাতে সবার আগে খেয়াল রাখতে হবে খাওয়া দাওয়া এবং জীবন যাত্রা যেন সুস্থ ও পরিকল্পিত হয়।

সঠিক ঘুম, খাওয়া ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাই পারে ব্রণ মুক্ত রাখতে। এতে ত্বকের অন্য্যন্য সমস্যা থেকেও পরিত্রাণ মেলে।

মাটিবিহীন ঘাস, সাত দিনেই উৎপাদন সম্ভব

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি প্রতিদিনই নানা অসম্ভব বিষয়কে সম্ভব করে তুলছে। আর তেমনি একটি চমকপ্রদ প্রযুক্তি মাটিবিহীন ঘাস উৎপাদন।

গবাদিপশুকে খাওয়ানোর জন্য উন্নত দেশগুলোতে আগে থেকেই হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে ঘাস উৎপাদিত হয়ে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ এই পদ্ধতিতে মাটিবিহীন ঘাস উৎপাদন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।

মাটির সংস্পর্শ ছাড়াই উৎপাদিত হচ্ছে পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ সবুজ ঘাস। এতে ব্যবহার করা হচ্ছে গম, ধান, ভুট্টাসহ বিভিন্ন দানাদার বীজ। এক কেজি বীজ থেকে মাত্র সাত অথবা আট দিনে সাত কেজি তাজা ঘাস উৎপাদন সম্ভব।

কোনো দুগ্ধ খামারিরা বাণিজ্যিকভাবে এই উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপন করতে চাইলে তাদেরকে কারিগরি বিষয়ে সহযোগিতা করবে বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ।

আগ্রহী খামারিদের মাটিবিহীন ঘাস সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা দেওয়ার জন্য প্রতি বৃহস্পতিবার ধানমন্ডির সায়েন্স ল্যাবে জাতীয় বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (বিসিএসআইআর) আয়োজন করা হয় মাটিবিহীন ঘাস উৎপাদন প্রক্রিয়ার বিশেষ প্রদর্শনীর। এখানে মাটি ছাড়া (হাইড্রোপনিক) ঘাস উৎপাদন প্রযুক্তির আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়।

বিসিএসআইআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও হাইড্রোপনিক প্রকল্প পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, সীমিত জমিতে বড় বাণিজ্যিক খামারের ঘাসের চাহিদা পূরণ কঠিন হয়ে পড়ে। সে হিসাবে স্বল্প জমিতে হাইড্রোপনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে খামারের জন্য ঘাস উৎপাদন অনেক বেশি লাভজনক।

তিনি বলেন, খামারিদের কেউ যদি এই প্রযুক্তি গ্রহণ করতে চান, তবে বিসিএসআইআর কারিগরি সহযোগিতা দেবে।

খরচ পড়বে কেমন: ৬০টি গরুর ফোডার সিস্টেমে ত্রিশ বছরের জন্য এককালীন মেশিন খরচ পড়বে আট লাখ টাকা। মেশিন বাংলাদেশে পাওয়া যায় না। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। প্রতিদিন ৫৮ কেজি বীজ ব্যবহার করে ৪০৬ কেজি ঘাস উৎপাদন করা যাবে। যা ৬০টি গরুর প্রতিদিনের খাবার। প্রতি গরুর জন্য ৭ কেজি ঘাস বরাদ্দ। সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনা করলে ৬০টি গরু দৈনিক ৭৮০ লিটার দুধ দিবে। অর্ধেক হিসেবে খরচ পড়বে ৪ লাখ টাকা।

এই ঘাসের বিশেষ বৈশিষ্ট্য: হাইড্রোপনিক প্রযুক্তির মাটিবিহীন ঘাস উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ, কেমিক্যাল মুক্ত, মোল্ড ও ছত্রাক মুক্ত, কৃমি ও অন্যান্য পরজীবী মুক্ত। এই ঘাস গরুর মাংসের জন্য- বডি ওয়েটের ২% ঘাস খাওয়াতে হবে। তিন কেজি ঘাস খাওয়ালে দুধের পরিমান এক কেজি বাড়ে। বছরে ৩৬৫ দিনই ঘাস উৎপাদন করা যাবে।

 

ডাবের পানির উপকারিতা

নারকেলের পানি পান করলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। নারকেলের পানির মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যকর অনেক উপাদান।

এটি শরীরকে পরিশোধিত করতে সাহায্য করে। সারা পৃথিবীতেই এই পানির বেশ কদর রয়েছে। এর স্বাস্থ্য উপকারিতাও অনেক বেশি।

টানা সাতদিন নারকেলের পানি খেলে শরীরের অনেক উপকার হয়। তবে যেকোনো খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা গ্রহণ করুন।

আসুন জেনে নেই নারিকেলের পানির উপকারিতা –

নারকেলের পানির মধ্যে রয়েছে মূত্রবর্ধক উপাদান। এটি ইউরিনারি ট্র্যাক্ট পরিষ্কারে সাহায্য করে।

শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। থাইরয়েড হরমোনের উৎপাদন বাড়ায়।

ব্যায়াম করার পর এক গ্লাস নারকেলের পানি শরীরের শক্তি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে।

প্রতিদিন এক কাপ নারকেলের পানি পান করলে ত্বককে আর্দ্র থাকে। এটি ব্রণের সমস্যা কমায়।

নারকেলের পানির মধ্যে রয়েছে আঁশ। এটি হজমে বেশ সাহায্য করে। নিয়মিত নারকেলের পানি পান করলে গ্যাসট্রিকের সমস্যা কমায়।

নারকেলের পানি শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি ইউরিনারি ট্র্যাক্টে সংক্রমণকারী ব্যাকটেরিয়াকে প্রতিরোধ করে।

এ ছাড়া মাড়ির রোগ, ঠান্ডা ইত্যাদি প্রতিরোধে সাহায্য করে।

নিয়মিত এক কাপ নারকেলের পানি খেলে উচ্চ রক্তচাপ কমে।

ওজন কমাতে নারকেলের পানি বেশ কার্যকর। এটি ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে। এতে ওজন কমে। ওজন কমাতে চাইলে নিয়মিত নারকেলের পানি পান করতে পারেন বলেন ।

এ বছরেই ইন্টারনেটের দাম হবে গ্রাহকবান্ধব- বিটিআরসি

গত ১০ বছরে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম ৭৫ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ৬৫০ টাকা করা হলেও এর সুফল পায়নি গ্রাহকরা। উল্টো মূল্য নির্ধারণে কোনো নিয়মনীতি না থাকায় কয়েকশ গুণ বেশি দামে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। নেই কাঙ্ক্ষিত গতি। এমন পরিস্থিতিতে, চলতি বছরেই গ্রাহকবান্ধব ইন্টারনেট মূল্য নির্ধারণ করতে যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)।

দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন কোটি। মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা এর দ্বিগুণ। ব্যান্ডউইথের দামের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৭ সালে প্রতি মেগা ব্যান্ডউইথের দাম ছিল ৭৫ হাজার টাকা। তারপর ১০ দফা কমিয়ে বর্তমানে তা এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬৫০ টাকায়। বিটিআরসির হিসেবে বর্তমানে গ্রাহকদের কিলোবাইটপ্রতি গুনতে হচ্ছে ২০০৭ সালের চেয়েও অধিক মূল্য। গতি ও মূল্যের এই কারসাজিতে ইন্টারনেটের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকরা।

গ্রাহকদের অভিযোগ, বলা হয় এক জিবি ইন্টারনেটের মেয়াদ সাতদিন। কিন্তু দেখা যায়, এর আগেই টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে।

কোনো নিয়মনীতি না থাকায়, অবকাঠামো নির্মাণ ও অন্যান্য ব্যয়ের অজুহাতে ইন্টারনেটের মূল্যে উচ্চগতি বলে মন্তব্য করেছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব)। তবে ইন্টারনেট অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান এনটিটিএন অপারেটরদের দাবি, কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তাদের সেবা।

অ্যামটবের মহাসচিব নুরুল কবির বলেন, ‘এখন যে দাম; বলা হচ্ছে ২৬ পয়সায় কিনে ২০০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে। আসলে কথাটা সত্য নয়। আমরা পুরো সেবাটা দিতে গিয়ে যে নেটওয়ার্কের যে খরচ, অন্যান্য সবগুলোর যে খরচ তা যোগ করলে তাতে আমাদের যে খরচ হয়, বলা যায় ইন্টারনেট ব্যবসাটা আমাদের জন্য লাভজনক নয়।’

এসব পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ বলছেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যেই গ্রাহকবান্ধব ইন্টারনেটের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।’

শাহজাহান মাহমুদ বলেন, ‘আইটিইউ (ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন ইউনিয়ন) থেকে একজন বিশেষজ্ঞ আনব। তখন বুঝতে পারব কোন অংশের জন্য কত খরচ হচ্ছে। তখন আমরা অবজেকটিভলি একটা দাম নির্ধারণ করতে পারব।’

শাহজাহান মাহমুদ আরো বলেন, ‘বিশেষজ্ঞরা সপ্তাহখানেকের মধ্যে কাজ শুরু করবেন। সপ্তাহখানেকের মধ্যে কাজ শুরু করবেন। মাস তিনেকের ভেতর তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে। তারপর আমাদের আরো মাসতিনেক লাগতে পারে। তারপর আমাদের হয়তো আরো মাসখানেকের মতো লাগতে পারে। তখন আমরা ওই বিশ্লেষণের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেব।’

আগামীতে গ্রাহক স্বার্থপরিপন্থী কোনো কিছু এই শিল্পে কাউকে করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান শাহজাহান মাহমুদ।

 

গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমছেঃ তারানা হালিম

গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে মোবাইল অপারেটরসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

তারানা হালিম বলেন, গত কয়েক বছরে প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ২৭ হাজার টাকা থেকে ৬২৫ টাকায় নামানো হলেও গ্রাহক পর্যায়ে সেভাবে দাম কমেনি। এর কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা নানা খরচের কথা বলেছে। কোন ধাপে কী ধরনের খরচ হচ্ছে তার বিস্তারিত বিবরণ দুই-তিন দিনের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। এছাড়া টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ৬৭৫ কোটি টাকার প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের অনুমোদন পাওয়া গেছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ইউজার লেবেলে কিছুটা হলেও মূল্যটা আরেকটু কমাতে চাই। ছয় মাসের মধ্যে একটা কনক্লুসানে আসতে পারবো যে আমাদের কিছু করা যাচ্ছে কিনা। তাদের বক্তব্য হচ্ছে এর চেয়েও যদি কমানো হয়, তাহলে সাসটেইন করাটাই কঠিন হয়ে যাবে। কারণ মধ্যস্বত্বার অনেক বিষয় আছে। চেষ্টা করছি। কিন্তু আমি এটাও বলছি অ্যাট দ্য সেম টাইম, তাদের যে এক্সপ্ল্যানেশনটা দেখলাম, তাতে করে খুবই কঠিন হবে।’

প্রেম করব কিন্তু বিয়ে করব না!

নাভিদ আর ইরিনার (ছদ্মনাম) সম্পর্কের শুরুতে কোনো পরিণতির প্রতিশ্রুতি ছিল না। ছিল না ভবিষ্যতের ভাবনা বা বিয়ের মতো সামাজিক স্বীকৃতি আদায়ের পরিকল্পনা। সময় গড়ায়, সম্পর্ক গাঢ় হয়। দুজনের ভালোবাসা পাল্লা দিয়ে বাড়ে। ইরিনা ভেতরে ভেতরে ভাবে, যতই কমিটমেন্ট না থাকুক, নাভিদ কি আর তাকে ছাড়তে পারবে! সে পরিণতির দিকে সম্পর্কটাকে নিয়ে যেতে চায়। এদিকে নাভিদ বুনো পাখি। বিয়ের কথা শুনলেই তার মন পালাই পালাই করে। বিয়ের বৈষয়িকতা, সামাজিকতা, দায়িত্বের ঘেরাটোপে ঘোর আপত্তি তার। তার বিশ্বাস বন্ধনহীন মুক্ত সম্পর্কে। যতক্ষণ প্রেম, ততক্ষণ সম্পর্কের আয়ু। একপর্যায়ে ইরিনা বিয়ের জন্য পীড়াপীড়ি করলে নাভিদ জানিয়ে দেয়, বিয়ের মতো আইনি ভিত্তিতে সে অনাগ্রহী।
রনি আর কেয়ার (ছদ্মনাম) গল্পটা ওদের থেকে আলাদা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষে রনি যখন সহপাঠী কেয়াকে প্রেমের প্রস্তাব দেয়, তখন সে রাজি হয়েছিল এক শর্তে—বিয়ের ব্যাপারে তার নিজস্ব কোনো মত নেই, বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। প্রেমে হাবুডুবু রনি তখন যেকোনো শর্তে রাজি। চতুর্থ বর্ষে এসে কেয়ার বাবা-মা যখন মেয়ের বিয়ের সিদ্ধান্ত নিলেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই ‘প্রতিষ্ঠিত সুপাত্র’-এর সামনে রনি টিকতে পারল না। কেয়াও বাধ্য মেয়ের মতো বাবা-মায়ের সিদ্ধান্তে সায় দিয়ে রনিকে সেই শর্তের কথা মনে করিয়ে দেয়।

কেন প্রতিশ্রুতিতে অনীহা?
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একসময় প্রেমে জড়িয়ে পড়া মানে ছিল বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে আবদ্ধ হওয়া। সময় বদলেছে। বিশ্বায়নের এই মুক্ত দুনিয়ায় পশ্চিমের হাওয়া ঢুকে পড়েছে এ দেশেও। ফলে কমিটেড বা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কের বাইরে এমন সম্পর্কেও মানুষ জড়াচ্ছে, যেখানে আজীবন একত্র বাসের অঙ্গীকার নেই, যেখানে প্রেমের উদ্দেশ্য—পরস্পরের সান্নিধ্যে বর্তমান সময় পার করা।

বিভিন্ন কারণে মানুষ দায়বদ্ধতায় যেতে অনাগ্রহী হয়। বিয়ে শুধু দুটি মানুষের যৌথ জীবনকে বৈধতা দেওয়ার বিধান নয়, বিয়ে দুটি পরিবারের মধ্যে বন্ধনও বটে। বর-কনের পেশাগত-সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থান এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিয়ে দুটি মানুষের নিজস্ব জীবনপন্থা পাল্টে দিয়ে নানা রকম দায়িত্ব ও বাধ্যবাধকতার ভার চাপিয়ে দেয়। তাই সফল প্রেমিক জুটি সফল দম্পতি না-ও হতে পারেন।

নানা কারণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান বললেন, বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ বা কলহপূর্ণ দাম্পত্যের কারণে অনেক সন্তান বিয়ের প্রতি শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলে। দাম্পত্যের আটপৌরে জীবনে প্রেম মরে যায়—এমন ধারণাও কাউকে কাউকে বিয়েতে নিরুৎসাহিত করে। দুজনের জীবনের গতিপথের ভিন্নতাও কমিটমেন্টে যেতে বাধা দেয়। কেউ কেউ আবার বহুগামিতায় আসক্ত থেকে কোনো একক সম্পর্কে আটকা পড়তে চান না। খুঁতখুঁতে স্বভাবের কারণে অনেকে নিশ্চিত হতে পারেন না তার বর্তমান প্রেমিক বা প্রেমিকাকেই তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে চান কি না। ঘন ঘন পছন্দের পরিবর্তন বা মানসিক অস্থিতিশীলতার কারণেও অনেকে পরিণতির প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সম্পর্কে যেতে ভয় পান।

প্রতিশ্রুতিহীন সম্পর্কে করণীয়
‘ট্রায়াঙ্গুলার থিওরি অব লাভ’ অনুসারে তীব্র আবেগ (প্যাশন), অন্তরঙ্গতা আর কমিটমেন্ট—এই তিনটি বৈশিষ্ট্য একটি সম্পর্ককে পরিপূর্ণতা দেয়। এমনটাই মনে করেন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘কেউ যদি সম্পর্কের পরিণতি প্রত্যাশী হন, কিন্তু অপরপক্ষে অনীহা দেখেন, তবে সে সম্পর্ক ধীরে ধীরে গুটিয়ে ফেলা বা সঙ্গীর প্রতি নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনাই ভালো। ভালোবাসার সর্বগ্রাসী প্রকৃতির জন্য আবেগে বাঁধ দেওয়া কঠিন। কিন্তু তা না হলে পরবর্তীকালে হৃদয়ভাঙার কষ্টটা আরও প্রকট হবে।’

কোন দিকে হাঁটবেন?
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুলতানা আলগিন দায়বন্ধতাকে আস্থা হিসেবেই মনে করেন। তিনি বলেন, ‘প্রকৃত, ভালোবাসা থাকলে কমিটমেন্ট থাকবেই। যদি কেউ পারিবারিক, আর্থিক, পেশাগত বা অন্য কোনো কারণে সম্পর্কের পরিণতি দিতে উৎসাহী না হন, তাহলে প্রেমের সম্পর্কে না জড়ানোই ভালো। আর যদি জড়িয়েই যান, তবে দায়িত্ব থাকবে বারবার সঙ্গীকে মনে করিয়ে দেওয়া যে এই সম্পর্কের স্থায়িত্ব নেই এবং সঙ্গী যেন পরিণতির প্রত্যাশা না করেন। তা না হলে ভুল-বোঝাবুঝির অবকাশ থেকে যাবে।’
কমিটমেন্ট ফোবিয়া বা প্রতিশ্রুতি ভীতি কাজ করলে যেতে পারেন বিশেষজ্ঞের কাছে। যিনি কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে মূল কারণ খুঁজে বের করে এই ভীতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবেন। আর দুজনেরই যদি প্রতিশ্রুতিহীনতায় আপত্তি না থাকে, তাহলে নিজেদের মতো করে চালিয়ে নিতে পারেন ভালোবাসার রোমান্টিক সম্পর্ক। সে ক্ষেত্রে আবেগতাড়িত না হয়ে সম্পর্কের ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

ভালোবাসাহীন প্রতিশ্রুতি আর প্রতিশ্রুতি ছাড়া ভালোবাসা
সব সম্পর্ক পূর্ণতা পায় না। প্রতিশ্রুতিহীন সম্পর্ককে সহজ সমীকরণে মেলানো যায় না। এটি অনেক রকম জটিলতা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা ডেকে আনে। প্রেম করব কিন্তু বিয়ে করব না, এমন সম্পর্কও যেমন স্থায়ী হয় না, তেমনি আবার ভালোবাসা নেই কিন্তু কথা দিয়ে ফেলেছি—সে সম্পর্কও সুখ বয়ে আনে না। ভালোবাসা ও প্রতিশ্রুতির যুগলবন্দীতে একটি সম্পর্ক পূর্ণ সৌন্দর্যে বিকশিত হতে পারে।

মাশরাফির সিদ্ধান্ত মাশরাফিই নেবেন

বয়স আগে না পারফরম্যান্স? মাশরাফি বিন মুর্তজার মনে এখন এই প্রশ্ন উঁকিঝুঁকি দিতেই পারে। সাতবার অস্ত্রোপচারের টেবিল থেকে নেমেও খেলে যাচ্ছেন। পারফরম্যান্স একেবারে খারাপ নয়। নেতৃত্বে অদ্বিতীয়। দলকে বিনিসুতোর মালায় গেঁথে রাখার নিপুণ কারিগর। তবু ইদানীং কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছে, মাশরাফি কেন এখনো খেলে যাচ্ছেন? অথবা মাশরাফিকে কি আরও খেলানো হবে?
আবার পাল্টা প্রশ্ন করার লোকও আছে। কেন খেলবেন না মাশরাফি? কেন তিনিই থাকবেন না ওয়ানডে দলের অধিনায়ক? বয়স ৩৩ পার হয়ে গেছে বলেই কি!
কৌতূহলীদের প্রশ্ন মূলত ২০১৯ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে। মাশরাফি কি ওই বিশ্বকাপেও বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবেন? তত দিন খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন তো! নাকি বিকল্প কিছু ভাবছে বিসিবি? দু-তিন দিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান মাশরাফির টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে একটি প্রক্রিয়া শুরুর কথা বলেছেন। কিন্তু তিনি একবারও বলেননি, তাঁরা মাশরাফির বিকল্প খুঁজছেন। বরং নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রভাবশালী এক বোর্ড পরিচালক বলেছেন, ‘যদি ফর্ম ঠিক থাকে এবং মাশরাফি চোটমুক্ত থাকে, তার খেলা চালিয়ে যাওয়াতে সমস্যা দেখে না বোর্ড।’ বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান আকরাম খান তো সরাসরিই বলে দিলেন, ‘ও একজন সফল অধিনায়ক, বাংলাদেশের জীবন্ত কিংবদন্তি। মাশরাফির ব্যাপারে যেকোনো সিদ্ধান্ত তাকেই নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। ক্যারিয়ার নিয়ে ও যে সিদ্ধান্ত নেবে, সবার সেটাই মেনে নেওয়া উচিত।’

২০১৫-এর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল—পরপর দুটি বড় টুর্নামেন্টে মাশরাফির নেতৃত্বে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। ফর্ম ও ফিটনেস ঠিক থাকলে ২০১৯ বিশ্বকাপেও বাংলাদেশ তাঁকেই চাইবে। তাঁর অধিনায়কত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। পারফরম্যান্স নিয়ে কখনো কখনো প্রশ্ন উঠলেও দ্রুতই দারুণ কিছু করে সেটি বুদ্‌বুদের মতো মিলিয়ে দিয়েছেন।

অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির এটি তৃতীয় ‘ইনিংস’। প্রথম দুবারই তাঁর অধিনায়কত্ব-অধ্যায় শেষ হয়েছে চোটে পড়ে। ২০১৪-এর নভেম্বরে তৃতীয় দফায় অধিনায়কত্ব পাওয়ার পরও বড় শঙ্কা ছিল এটি নিয়েই। কিন্তু একসময় চোটকে নিত্যসঙ্গী বানিয়ে ফেলা মাশরাফি সেই অভিশাপকে জয় করে গত বছর তিনেক টানা খেলে যাচ্ছেন। ম্যাচের পর ম্যাচ হারতে থাকা বাংলাদেশকে ঘোর অমানিশা থেকে উজ্জ্বল আলোতে নিয়ে আসার কৃতিত্বও তাঁর। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫-০ ম্যাচে সিরিজ জয় দিয়ে শুরু। এরপর ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা। সেটিই যেন জাদুমন্ত্রের মতো বদলে দিল মাশরাফির বাংলাদেশকে। পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা পাঁচটি সিরিজ জয়। এরপর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হারলেও একটু এদিক-ওদিক হলেই বাংলাদেশ জিততে পারত সেটিও। মাশরাফির অধিনায়কত্বের তৃতীয় মেয়াদে বাংলাদেশ ওয়ানডেতে জয় পায়নি শুধু নিউজিল্যান্ড সিরিজে। শ্রীলঙ্কার মাটিতে সিরিজ ১-১-এ ড্র হয়েছে। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয় এসেছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই স্মরণীয় এক জয়ে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খেলল সেমিফাইনাল। এই সময়ে মাশরাফির নেতৃত্বে ৪০টি ওয়ানডের ২৪টিতে জয়, সাফল্যের হার ৬২.৫ শতাংশ।

একাই ম্যাচ জিতিয়ে দেওয়ার ক্ষমতার দিক থেকে দলের অন্য বোলারদের চেয়ে একটু পিছিয়ে থাকতে পারেন, তবে পরিসংখ্যান কিন্তু একটা ক্ষেত্রে মাশরাফিকেই রাখছে এক নম্বরে। আবার অধিনায়কত্ব পাওয়ার পর বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৮ উইকেট নিয়েছেন মাশরাফি। ওভার প্রতি রান দিয়েছেন মাত্র ৪.৯৪। খেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো ফর্ম ও ফিটনেস যেহেতু এখনো আছে, অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফির বিকল্প খোঁজার তাড়াহুড়া নেই বিসিবির। কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের মনে একটু খচখচানি ছিল। মাশরাফির জায়গায় আরেকটু জোরে বল করা কাউকে যদি পাওয়া যায়…। এখন তিনিও নাকি মাশরাফির ব্যাপারে ইতিবাচক। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি উপলক্ষে ৫০ দিনের সফরে মাশরাফি একবারের জন্যও ফিজিওর টেবিলে ওঠেননি, সেই খবরও তো আর অজানা নয় হাথুরুসিংহের। অধিনায়কের কাছে তাঁর বাড়তি চাওয়া বলতে ব্যাটে দ্রুত ১৫-২০টি রান এবং বোলিংয়ে আরেকটু আক্রমণাত্মক মনোভাব। যেটি পূরণ করা মাশরাফির জন্য অসাধ্য কিছু নয়।

অধিনায়ক মাশরাফির বিকল্প যে এখনো তৈরি হয়নি, সেটি তাঁর শত্রুও (যদি কেউ থাকে) মানতে বাধ্য। বিসিবিও সেটা মানে বলেই মাশরাফির সঙ্গে এখন পর্যন্ত এসব নিয়ে আলোচনা করেনি। তবে চোটাঘাতে যে কেউ যেকোনো সময় পড়তে পারে। ফর্মও কারও হঠাৎ খারাপ হতেই পারে। মাশরাফির ক্ষেত্রে সে রকম কিছু হলে অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডের বর্তমান সহ-অধিনায়ক সাকিবই প্রথম পছন্দ হবেন বোর্ডের। কিন্তু ও রকম পরিস্থিতিতে বোলিং প্রান্তে মাশরাফির পরিবর্তক কে হবেন, এটা একটা প্রশ্ন। দলের ভেতরে-বাইরে এমন কোনো পেসার তো নেই, যিনি মাশরাফির চেয়ে অনেক ভালো কিছু করে দেখাচ্ছেন।

সব মিলিয়ে আকরাম খানের কথাটাই হয়তো ঠিক। নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারটা মাশরাফির ওপরই ছেড়ে দেওয়াই ভালো।

তিনি নিজে কী বলেন

পারফরম্যান্স ঠিক থাকলে আমি খেলে যাব। কারণ খেলাটা এখনো উপভোগ করছি। আমি এখন যেমন খেলছি, তাতে উপভোগ না করার কোনো কারণ দেখছি না। আর আমি তো বিসিবির কাছ থেকে অধিনায়কত্ব চেয়ে নিইনি, বিসিবিই আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। এখন বিসিবি যদি মনে করে দায়িত্বটা অন্য কাউকে দেবে তো দিতেই পারে। আমি অধিনায়কত্বের জন্য খেলি না। আমি খেলোয়াড়, সে জন্যই খেলি। ২০১৯ বিশ্বকাপের কথা বললে এখানে ফিটনেসটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফর্মও ভালো থাকতে হবে। এ দুটো ঠিক থাকলে ২০১৯ বিশ্বকাপ আমি কেন খেলতে চাইব না! সব ঠিক থাকলে অবশ্যই আমার তত দিন খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে।